Description
মেডিক্যাল, ডেন্টাল, নার্সিং, এবং ফার্মেসী বিষয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ফার্মাকোলজি পাঠ্যপুস্তক
বইটি ক্রয়ের জন্য সরাসরি প্রকাশকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৪৯০
অধ্যায় সংখ্যাঃ ১৫
কাগজঃ ৮০ গ্রাম, অফসেট
প্রতি পৃষ্ঠা ছাপার রঙঃ চার
একজন সুস্থ লোক যে কোন সময় অসুস্থ হতেই পারে। তখন তার ৩টি বিষয়ে (ইংরেজিতে থ্রি ডি) শরণাপন্ন পণ্য হতে হয়। ডক্টর (চিকিৎসক), ডায়াগনোসিস (অসুস্থতার কারণ নির্ণয়) এবং ড্রাগ (ঔষধ)। এ জন্যে প্রয়োজন দক্ষ চিকিৎসক তৈরি করা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের স্নাতক কোর্সের ছাত্রছাত্রীদের ঔষধ সম্পর্কে স্পষ্ট, ব্যাপক প্রয়োজনীয় জ্ঞান দান করা যা রোগীর জন্য উপকারী। এ কথাটি সবাই একবাক্যে স্বীকার করেন যে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করতে স্নাতক কোর্সের ছাত্রছাত্রীদের ঔষধ সম্পর্কে দরকারি জ্ঞান দেয়া প্রয়োজন।
মেডিকেল কলেজগুলোতে স্নাতক কোর্সের ছাত্রছাত্রীদের ঔষধ সম্পর্কে জ্ঞান দান করার প্রচলিত পদ্ধতি হয় ৪০-৫০ মিনিটের লেকচার ক্লাসে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন। অধিকাংশ কলেজেই ব্যবহারিক জ্ঞান দেয়ার ব্যবস্থা নেই। এর ফলে ছাত্রছাত্রীরা ঔষধ সম্পর্কে যে ধরনের জ্ঞান আশা করে তা অপূর্ণ থাকে। ধীরে ধীরে ছাত্রছাত্রীরা যে চিন্তাভাবনা নিয়ে মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তি হয়েছিল তা পরিবর্তিত হতে থাকে।
এ ধরনের মন-মানসিকতার পরিবর্তনের জন্য আমাদের ছাত্রছাত্রীরা সরাসরি দায়ী নয়। দরকার শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন যা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। ফার্মাকোলজি বিষয়ে কারিকুলাম তৈরি ও তার সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রয়োজন ছাত্রছাত্রীরা জন্য উপযুক্ত বই, ব্যবহারিক শিক্ষাদান এবং মুখস্থ ভিত্তিক ফাইনাল পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন। ছাত্রছাত্রীরা যে সমস্ত টেক্সট বই পড়ে তা পাশ্চাত্য দেশের জন্য উপযোগী হলেও তা আমাদের ছাত্রছাত্রীদের জন্য কতটুকু উপযোগী তা তর্কের বিষয়। বর্তমান ফার্মাকোলজি বইগুলো ইংরেজিতে লিখা। প্রতিটি ঔষধের তথ্য শুধু শ্রেণীবিন্যাস, কি ভাবে কাজ করে, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, কোন কোন রোগে ব্যবহার করা হয়, ইত্যাদির মধ্যে সীমাবদ্ধ। এমন একটি ঔষধ নেই যে সম্পর্কে টেক্সট বইয়ের এক পৃষ্ঠা জুড়ে লিখা রয়েছে।
স্কুল জীবনে অংকের শিক্ষক আমাদেরকে এক হতে ১০ পর্যন্ত নামতা শিখিয়েছেন। এটি যারা ভালো ভাবে রপ্ত করতে পেড়েছেন তারাই ১০ এর পরের সংখ্যাগুলোর নামতা সহজেই বলতে পারেন। এ ধরনের চিন্তাভাবনা মাথায় রেখে বহুল ব্যবহৃত ১৫টি ঔষধ বিস্তারিতভাবে এ বইটিতে লিখা হয়েছে। এ ঔষধগুলোর সঙ্গে জড়িত ৩৭টি রোগ, লক্ষন, এবং উপসর্গগুলোর চিকিৎসা। পরবর্তী সংস্করণে ঔষধের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে যদি আল্লাহতালা অনুমতি দেন।
এ বইটিতে বর্ণীত ঔষধগুলোর মাঝে আছে বৈচিত্র্য। যেমন, প্যারাসিটামল ৬টি ভিন্ন ডোসাজ ফর্মে পাওয়া যায়। অন্যদিকে এটরভাস্ট্যাটিন মাত্র ১টি ডোসাজ ফর্মে পাওয়া যায়। সালবিউটামল ইনহেলারের সর্বনিম্ন স্ট্রেন্থ যেখানে ২০০ মাইক্রোগ্রাম সেখানে সালফাসালাজিন বড়ির সর্বনিম্ন স্ট্রান্থ ৫০০ মিলিগ্রাম (২৫০০ গুণ বেশি)। আমাদের দেহ প্যারাসিটামলকে ম্যাটাবোলাইজ করে ৫টি উপায়ে। অন্যদিকে মেটফর্মিনকে ম্যাটাবোলাইজের আওতায় আনা যায় না।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল ফর্মুলারী ৫ম সংস্করণে প্রকাশিত প্রোপ্রাইটারী ঔষধের সংখ্যা প্রায় ৮,০০০। এর বিভিন্ন ডোসাজ ফর্ম যোগ করলে তার সংখ্যা প্রায় ২২,০০০। নন-প্রোপ্রাইটারী ঔষধের সংখ্যা প্রায় ৬৮০। এটি ধরে নেয়া হয় যে, একজন চিকিৎসকের জন্য ৫০ হতে ৬০টি ঔষধ সম্পর্কে বিস্তারিত জানলেই হয়।
১৯৫২ সালে যে জাতি নিজেদের মাতৃভাষা বাংলার জন্য আন্দোলন করেছিল এবং নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছে সে জাতি এত বছর পরেও বাংলা ভাষাকে সর্বস্তরে ব্যবহার করতে পারেনি। এটি আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়। ফার্মাকোলজি বিষয়ে বাংলা ভাষায় বই লিখা অত্যন্ত কঠিন কাজ। কিছু ভুল থাকাটাই স্বাভাবিক। বানান নিয়ে সমস্যা হয়েছে। যেমন, “ফার্মাকোলজি” না “ফার্মাকোলজী”, “ঔষধ” না “ওষুধ”, “ডিগ্রি” না “ডিগ্রী”, “তৈরি” না “তৈরী”, ইত্যাদি। এটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। মন-মানসিকতার দিক দিয়ে বাঙ্গালী হয়েও অনেকে বাংলা ভাষায় চিকিৎসা বিজ্ঞানের বই লিখাকে সহজভাবে নেন না। তাতে আমার কিছু আসে যায় না। এমন অনেক উন্নত দেশ রয়েছে যাদের মাতৃভাষা ইংরেজি নয় (যেমন, জাপান, চীন, রাশিয়া) তাদের চিকিৎসা বিজ্ঞানের বইগুলো তাদের মাতৃ ভাষায় লিখা এবং তারা চিকিৎসা বিজ্ঞানে উন্নতির দিক দিয়ে পিছিয়ে নেই।
ছাপার অক্ষরে বইয়ের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফার্মাকোলজি এমনই একটি বিষয় যা নিয়মিত পরিবর্তিত হচ্ছে। এছাড়া অডিও এবং ভিডিও ব্যতীত জ্ঞান অসমাপ্ত। তাই কোনও কোনও ঔষধের অধ্যায়ের শেষ পৃষ্ঠায় আমার তৈরি ওয়েভ সাইটের লিংক দেয়া হয়েছে। এতে অডিও এবং প্রয়োজনীয় ভিডিও যোগ করা হয়েছে। দশটি ঔষধের উপর বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন (ইন্টারএকটিভ সহ) যোগ করা হয়েছে। প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে এর সামগ্রীতে সংযোজন অথবা বিয়োজন করা হচ্ছে।
এ বইয়ের পাঠকগণ (চিকিৎসা বিজ্ঞান, ডেন্টাল এবং ফার্মেসী বিষয়ের স্নাতক কোর্সের ছাত্রছাত্রীরা) যদি কিছুটা হলেও উপকৃত হয় তাহলে আমার পরিশ্রম সার্থক হবে। এ বইয়ের কোনও কোনও অংশ নার্সিং বিষয়ের ছাত্রছাত্রীদেরও উপকারে আসবে।




Reviews
There are no reviews yet.